অধ্যায় ১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত — ১.৪.১ : প্লেজিয়ারিজমের প্রকারভেদ, কারণসমূহ এবং প্রতিরোধ:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · HSC | টেক্সটবুক
🔗 ১৫. ১.৪.১ : প্লেজিয়ারিজমের প্রকারভেদ, কারণসমূহ এবং প্রতিরোধ:
প্লেজিয়ারিজম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। এখানে কয়েক প্রকারের প্লেজিয়ারিজমের উল্লেখ করা হলো :
১) ক্লোন (Clone) প্লেজিয়ারিজম : এতে একজন ব্যক্তি কোনো পরিবর্তন ছাড়া কোনো বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট হুবহু কপি (নকল) করে এবং এটিকে তার নিজের বলে দাবি করে।
২) রিমিক্স (Remix) প্লেজিয়ারিজম : এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সবগুলিকে একত্রিত করে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করে, তারপর এটিকে নিজের তৈরি করা বলে দাবি করে।
৩) হাইব্রিড (Hybrid) প্লেজিয়ারিজম : এই ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে উদ্ধৃত কোনো উৎস ডকুমেন্টকে উদ্ধৃতি ছাড়া একটি নতুন ডকুমেন্ট হিসাবে অনুলিপি করে নতুনভাবে সাজানো হয়।
৪) রিসাইকেল (Recycle) প্লেজিয়ারিজম : এটি সঠিক উদ্ধৃতি ছাড়া নিজের পূর্ববর্তী কোন কনটেন্ট বা ডকুমেন্ট থেকে ধার নেওয়া বা পুনর্ব্যবহার করার কাজকে বোঝায়। Recycle প্লেজিয়ারিজমকে স্ব-চৌর্যবৃত্তি (self-plagiarism)ও বলা হয়।
৫) 404 Error প্লেজিয়ারিজম : এতে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে কনটেন্ট অনুলিপি করে একটি নথি তৈরি করে এবং উদ্ধৃতিসহ একক নথি হিসেবে প্রস্তুত করে। কিন্তু যদি উদ্ধৃতিসমূহ ভুল বা ভুয়া এবং এগুলো অস্তিত্বহীনতার পরিচয় দেয় তাহলে এটিকে 404 Error প্লেজিয়ারিজম বলা হয়।
৬) Aggregator প্লেজিয়ারিজম : এই ক্ষেত্রে লিখিত কনটেন্ট বা ডকুমেন্টে যথাযথ সকল উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে কিন্তু এতে কোনো মূল কাজ থাকে না।
৭) রি-টুইট (Re-tweet) প্লেজিয়ারিজম : সঠিকভাবে উৎসসমূহ উদ্ধৃত করে লিখিত কনটেন্ট বা ডকুমেন্টটি নিখুঁত বলে প্রতীয়মান হওয়ার পরও যদি এটি অন্য কোন মূল-কনটেন্ট এর কাঠামো বা শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় তবে এটিকে বলা হয় রি-টুইট প্লেজিয়ারিজম।
প্লেজিয়ারিজম কারণসমূহ :
বর্তমান যুগে কপি (Copy) এবং পেস্ট (Paste) ফাংশনের সাহায্যে বিনা পরিশ্রমে অতি সহজে ইন্টারনেট হতে কোনো আর্টিকেল, লেখা বা তথ্য আংশিক বা সম্পূর্ণ অনুলিপি করে বা তা নিজের নামে প্রকাশ করা সহজ।
প্লেজিয়ারিজম সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব, অর্থাৎ উৎস উল্লেখ না করে কারও লেখা ব্যবহার করলে সেটা যে সেই
পৃষ্ঠা ৩১
প্রতারণা সে সম্বন্ধে ধারণা না থাকা।
ইন্টারনেটের বিপুল তথ্যভান্ডার থেকে কপি করে নিজের বলে প্রকাশ করলে কেউ বুঝতে বা জানতে পারবে না এরূপ আত্মবিশ্বাস থাকা।
নিজে সময়, মেধা ও শ্রম ব্যয় না করে সহজে অন্যের তৈরি করা বিষয় ব্যবহারের প্রবণতা।
প্লেজিয়ারিজম শনাক্তকরণের উপায় :
আমাদের কনটেন্ট তৈরি ও গবেষণার কাজের মৌলিকত্ব নিশ্চিত করতে, একাডেমিক সততা বজায় রাখতে এবং চৌর্যবৃত্তির সাথে জড়িত থাকার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে প্লেজিয়ারিজম চেক করা জরুরি (checker)। প্লেজিয়ারিজম চেক করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ- Grammarly, Plagium, Plagiarisma, Plagiarismchecker, Zerogpt, Quillbot, Quetext, Turnitin ইত্যাদির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। এসব সফটওয়্যার আমাদের কনটেন্টকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান কনটেন্টের সাথে তুলনা করে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো মিল থাকলে তা শনাক্ত করতে সহায়তা করে এবং ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করার আগে আমাদেরকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সুযোগ দেয়।
প্লেজিয়ারিজম এর ফলে উদ্ভূত সমস্যাবলি:
অন্যের কনটেন্ট অনুলিপি করায় লেখকের নিজস্ব চিন্তন দক্ষতা হ্রাস পায়।
প্রকৃত লেখক তাঁর ন্যায্য স্বীকৃতি হতে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ব্যাপক প্লেজিয়ারিজমের ফলে নতুন চিন্তা-ধারণা সৃষ্টি ব্যাহত হয়।
ইচ্ছাকৃতভাবে প্লেজিয়ারিজমের ফলে নৈতিক অবক্ষয় হয়।
সময়, শ্রম ও মেধা প্রয়োগের মাধ্যমে কাজ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।
প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধের উপায়:
প্লেজিয়ারিজম একটি বেআইনী কাজ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে কপিরাইট আইনসহ প্লেজিয়ারিজম আইনও রয়েছে। বাংলাদেশে প্লেজারিজম আইন না থাকলেও কপিরাইট আইন আছে। এর আওতায় জনগণ আইনি সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া দেশের স্বাভাবিক আইনি ব্যবস্থায় একজন লেখক অথবা কোনও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চাইলেই সিভিল কোর্টে অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। সেটা ছাড়াও ১৯০৮ সালের যে দেওয়ানি কার্যবিধি আছে সেই কার্যবিধি মৌলিক আইন হিসাবে কাজ করে। ফলে এই আইনের বিভিন্ন স্তরে যে বিধিবিধান আছে সেই বিধিতে প্লেজিয়ারিজমের ভিত্তিতে যে কেউ চাইলেই অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এছাড়া প্লেজিয়ারিজম সামগ্রিকভাবেও প্রতিরোধ করা উচিত। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক ধারণা দিতে হবে। অন্যের লেখা সরাসরি অনুলিপি করা, উদ্ধৃতি ছাড়া প্যারাফ্রেজ করা এবং অন্যদের গবেষণার ফলাফল নিজের নামে ব্যবহার করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড এক ধরনের চৌর্যবৃত্তি, এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।