SSC জীববিজ্ঞান: কোষ বিভাজন — মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য

তোমার একটা চামড়ার কোষ ভাগ হয়ে দুটো কোষ হলে, দুটোই কি অবিকল একই রকম হওয়া উচিত, নাকি অর্ধেক অর্ধেক তথ্য নিয়ে আলাদা হওয়া উচিত?

উত্তর সহজ — অবিকল একই রকম। চামড়ার কোষের কাজ চামড়া তৈরি করা, আর সেই কাজে পুরো তথ্যভাণ্ডারটাই লাগে।

কিন্তু শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরির বেলায় গল্পটা উল্টো। বাবা-মা দুজনেই যদি পূর্ণ তথ্য দেয়, সন্তানের কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্মে প্রজন্মে দ্বিগুণ হতে থাকবে। তাই জননকোষ তৈরির সময় সংখ্যাটা অর্ধেক করে দিতেই হয়।

দুই ভিন্ন প্রয়োজন, দুই ভিন্ন প্রক্রিয়া — এখান থেকেই মাইটোসিস আর মিয়োসিসের গল্প শুরু।

মাইটোসিস: হুবহু কপি

দেহকোষে ঘটে। একটা কোষ ভাগ হয়ে দুটো কোষ হয়, দুটোই মূল কোষের সমান ক্রোমোজোম নিয়ে। কাজ তিনটে — শরীরের বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত, আর অযৌন জনন।

ধাপগুলোর নাম শুনেই মানে বোঝা যায়। Prophase-এ ক্রোমোজোম দৃশ্যমান হয়। Metaphase-এ (meta মানে মাঝামাঝি) ক্রোমোজোম কোষের মাঝ বরাবর সারিবদ্ধ হয়। Anaphase-এ জোড়া আলাদা হয়ে দুই মেরুর দিকে ছোটে। Telophase-এ দুটো নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়ে কোষ সম্পূর্ণ ভাগ হয়ে যায়।

মিয়োসিস: সংখ্যা ভাগ করা

জননকোষ তৈরিতে ঘটে। একটা কোষ থেকে চারটে কোষ তৈরি হয়, প্রতিটাতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মূল কোষের অর্ধেক।

মানুষের দেহকোষে ৪৬টা ক্রোমোজোম। মিয়োসিসের পর প্রতিটা শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে থাকে ২৩টা — একটা কোষপ্রতি ২৩টা, চার ভাগে ভাগ হওয়া নয়। নিষেক ঘটলে দুটো ২৩ মিলে আবার ৪৬ হয়। এই ভারসাম্য রক্ষাই মিয়োসিসের কাজ, আর দুইবার বিভাজন ঘটে বলেই সংখ্যাটা অর্ধেক হতে পারে — মাঝখানে ক্রোমোজোম আর দ্বিগুণ হয় না।

দুটো পাশাপাশি রাখলে

মাইটোসিস মিয়োসিস
ঘটে কোথায় দেহকোষে জননকোষে
বিভাজন কতবার একবার দুইবার
উৎপন্ন কোষ ২টি ৪টি
ক্রোমোজোম সংখ্যা মূলের সমান মূলের অর্ধেক
উদ্দেশ্য বৃদ্ধি ও মেরামত জননকোষ তৈরি

শেষ একটা কথা যোগ করা দরকার। মিয়োসিসে ক্রোমোজোমের অংশ বিনিময় হয় (crossing over নামে), তাই উৎপন্ন চারটে কোষ একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই বিনিময়ের কারণেই একই বাবা-মায়ের দুই সন্তান দেখতে হুবহু এক হয় না।

প্রশ্নে “ক্ষত সারানো” শব্দ দেখলে সরাসরি মাইটোসিস — কী চাওয়া হয়েছে সেটা পড়েই ধরা যায়, মুখস্থের দরকার নেই। “জননকোষ” শব্দ দেখলে মিয়োসিস।

শুরুর প্রশ্নে ফিরি — এখন কি বলতে পারবে কেন চামড়ার কোষ মাইটোসিসে ভাগ হয় আর শুক্রাণু মিয়োসিসে? উত্তরটা এক লাইনে বলা যায় কিনা নিজেকে পরীক্ষা করো। তারপর একটা কাগজে একটা বৃত্ত এঁকে দেখাও কীভাবে সেটা দুটো বা চারটে বৃত্তে ভাগ হচ্ছে — ছবিতে বুঝলে লেখায় আর ভুল হয় না।

Leave a Reply

Discover more from BDAcademic

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading