সোডিয়াম (Na) আর ক্লোরিন (Cl) মিলে লবণ (NaCl) তৈরি করে। কিন্তু দুটো আলাদা আলাদা মৌল হিসেবে থাকলে সমস্যা কোথায় ছিল, যে তাদের মিলে যেতে হলো?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে পরমাণুর গঠনে, আর একটা মাত্র তাড়নায় — প্রতিটা পরমাণু স্থিতিশীল হতে চায়, আর স্থিতিশীলতা আসে সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথে আটটা ইলেকট্রন থাকলে। এই একটা কথা থেকেই বন্ধনের প্রায় সব নিয়ম বেরিয়ে আসে।
সংখ্যা দিয়ে শুরু
পারমাণবিক সংখ্যা (Z) মানে প্রোটনের সংখ্যা, যা মৌলের পরিচয় ঠিক করে। নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন আর ইলেকট্রন সমান — এই একটা কথা মনে রাখলে ইলেকট্রন বিন্যাসের হিসাব সহজ হয়ে যায়।
কক্ষপথ ভরাট হয় নির্দিষ্ট নিয়মে — প্রথমটায় সর্বোচ্চ ২, দ্বিতীয়টায় ৮, তৃতীয়টায় SSC স্তরে সাধারণত ৮। সোডিয়ামের (Z=11) বিন্যাস তাই 2, 8, 1। ক্লোরিনের (Z=17) বিন্যাস 2, 8, 7।
এখানেই গল্পটা জমে ওঠে
সোডিয়ামের বাইরের কক্ষপথে মাত্র ১টা ইলেকট্রন। সেটা ছেড়ে দিলে তার দ্বিতীয় কক্ষপথ (৮টা ইলেকট্রন নিয়ে) বাইরের হয়ে যায় — স্থিতিশীল।
ক্লোরিনের বাইরের কক্ষপথে ৭টা, আটে পৌঁছাতে দরকার মাত্র ১টা। একটা ইলেকট্রন নিলেই তার কাজ শেষ।
সোডিয়াম ছেড়ে দেয়, ক্লোরিন নিয়ে নেয়। সোডিয়াম হয় Na⁺, ক্লোরিন হয় Cl⁻। বিপরীত চার্জ পরস্পরকে টানে, তৈরি হয় আয়নিক বন্ধন — ইলেকট্রন হস্তান্তরের মাধ্যমে গঠিত বন্ধন, সাধারণত ধাতু ও অধাতুর মধ্যে ঘটে।
যখন কেউ ছাড়তে রাজি নয়
এবার দুটো ক্লোরিন পরমাণুর কথা ভাবো। দুজনেরই দরকার একটা ইলেকট্রন, কিন্তু কেউ ছাড়তে রাজি নয় — আকর্ষণ সমান।
সমাধান হলো ভাগাভাগি। দুজনে মিলে একটা ইলেকট্রন-জোড়া মাঝখানে জমা করে, আর দুজনেই সেটা ব্যবহার করে নিজেদের অষ্টক পূরণ করে। কেউ কারো ইলেকট্রন সম্পূর্ণ নেয় না — এটাই সমযোজী বন্ধন, সাধারণত দুটো অধাতুর মধ্যে ঘটে।
পাশাপাশি রাখলে
| আয়নিক বন্ধন | সমযোজী বন্ধন | |
|---|---|---|
| কীভাবে তৈরি | ইলেকট্রন হস্তান্তর | ইলেকট্রন ভাগাভাগি |
| কাদের মধ্যে | ধাতু ও অধাতু | অধাতু ও অধাতু |
| গলনাঙ্ক-স্ফুটনাঙ্ক | উচ্চ | নিম্ন |
| পানিতে দ্রবণীয়তা | সাধারণত দ্রবণীয় | সাধারণত অদ্রবণীয় |
| উদাহরণ | NaCl, MgO | H₂O, CO₂, CH₄ |
গলনাঙ্কের পার্থক্যটা এমনি এমনি নয়। আয়নিক যৌগে চার্জযুক্ত আয়ন একে অপরকে শক্ত করে ধরে রাখে, তাই ভাঙতে বেশি তাপ লাগে। সমযোজী যৌগে চার্জ নেই, বন্ধন তুলনামূলক দুর্বল।
একটা ভুল ধারণা প্রায়ই হয় — সমযোজী বন্ধনে ইলেকট্রন “ভাগ” হওয়া মানে প্রতি পরমাণু আধা ইলেকট্রন পায়। তা নয়। জোড়াটা দুজনেই সমানভাবে, পুরোপুরি ব্যবহার করে, ভাগ হয়ে যায় না। আর ধাতু-ধাতুর মধ্যেকার গঠনের নাম ধাতব বন্ধন — সেটা এই দুটোর কোনোটাই নয়, আলাদা একটা ব্যাপার।
এবার নিজে করো
ম্যাগনেসিয়ামের (Z=12) ইলেকট্রন বিন্যাসটা লিখে ফেলো, তারপর ভাবো — সে কি ইলেকট্রন ছাড়বে, নেবে, নাকি ভাগ করবে? উত্তরটা পেলেই বলে দিতে পারবে MgO কী ধরনের বন্ধনে গঠিত, আর কেন।