Application লেখা আসলে সবচেয়ে সহজ রচনামূলক প্রশ্ন, কিন্তু অনেকেই এটাতে নম্বর হারায়। কারণটা অদ্ভুত — তারা বিষয়টা জানে, কিন্তু কাঠামোটা জানে না।
এখানে একটা সুবিধা আছে যা প্যারাগ্রাফ বা রচনায় নেই। দরখাস্তের প্রায় পুরো কাঠামোটাই প্রতিবার একই থাকে। শুধু মাঝখানের কয়েকটা লাইন বদলায়। একবার কাঠামোটা মুখস্থ হয়ে গেলে যেকোনো বিষয়ে দরখাস্ত লিখে ফেলা যায়।
কাঠামোটা
উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছয়টা অংশ, এই ক্রমেই লিখতে হয়।
১. তারিখ — বাঁ দিকে।
২. প্রাপক — কাকে লিখছ, তার পদবি ও প্রতিষ্ঠানের নাম।
৩. Subject — এক লাইনে বিষয়। এই লাইনটাই পরীক্ষককে বলে দেয় তুমি কী চাইছ।
৪. Salutation — Sir বা Madam।
৫. Body — মূল বক্তব্য, তিনটি অনুচ্ছেদ।
৬. Closing — বিনীত সমাপ্তি, তারপর নিজের পরিচয়।
একটা নমুনা দেখো
Write an application to the Headmaster of your school for full-free studentship.
12 August 2026
The Headmaster
Shaheed Smrity High School
Bogura
Subject : Application for full-free studentship
Sir
With due respect, I beg to state that I am a student of class ten in your school. I have been reading in this school since class six.
My father is a farmer and he is the only earning member of our family. He has to support seven members with his small income. Since the last flood damaged our crops, his earnings have fallen further. It has become very hard for him to bear my educational expenses along with the expenses of my two younger sisters. Though my family is poor, I have never neglected my studies. I stood first in my class in the last annual examination and I have never been absent without reason.
I therefore pray and hope that you would be kind enough to grant me full-free studentship and oblige thereby.
I remain,
Sir,
Your most obedient pupil
Sabbir Ahmed
Class Ten, Roll No. 12
কোনটা বদলায়, কোনটা বদলায় না
এটাই সবচেয়ে কাজের কথা।
যা কখনো বদলায় না — তারিখের অবস্থান, Subject লাইনের গঠন, Sir, শুরুর “With due respect, I beg to state that…”, শেষের “I therefore pray and hope that you would be kind enough to… and oblige thereby”, আর সমাপ্তির অংশটা।
যা প্রতিবার বদলায় — Subject লাইনের বিষয়টা, প্রথম অনুচ্ছেদের পরিচয়, আর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের কারণ।
মানে আসলে তোমাকে প্রতিবার নতুন করে লিখতে হয় শুধু একটা অনুচ্ছেদ — কেন তুমি এই আবেদন করছ। বাকিটা ছাঁচ।
কত বড় লিখবে
এসএসসি পর্যায়ে ১৫০ থেকে ১৭০ শব্দ। উপরের নমুনাটা প্রায় ১৬০ শব্দের, তারিখ ও ঠিকানাসহ।
শব্দসংখ্যার প্রায় পুরোটাই আসে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ থেকে। প্রথম ও তৃতীয় অনুচ্ছেদ বাঁধা — ওগুলো ছোটই থাকবে। তাই লেখা ছোট হয়ে গেলে কারণের অনুচ্ছেদে আরেকটা তথ্য যোগ করো, শুরু বা শেষ লম্বা করার চেষ্টা কোরো না।
কাঠামোটা যেভাবে ঘুরিয়ে ব্যবহার করবে
একই ছাঁচে অন্য দরখাস্ত লিখতে গেলে শুধু Subject আর কারণের অনুচ্ছেদ বদলাও।
ছাড়পত্রের জন্য — বাবার বদলি হয়েছে, পরিবারসহ অন্য শহরে যেতে হচ্ছে।
প্রশংসাপত্রের জন্য — পরীক্ষা শেষ হয়েছে, ভর্তির জন্য প্রয়োজন।
ছুটির জন্য — অসুস্থতা বা পারিবারিক প্রয়োজন, কত দিনের ছুটি চাই।
কমন রুম বা ক্যান্টিনের জন্য — শিক্ষার্থীদের অসুবিধা, কেন প্রয়োজন।
খেয়াল করো, চারটাতেই শুরু আর শেষ হুবহু এক। শুধু মাঝের কারণটা আলাদা।
যেসব ভুলে নম্বর কাটা যায়
Subject লাইন বাদ দেওয়া। এটার আলাদা নম্বর আছে, আর লিখতে পাঁচ সেকেন্ড লাগে।
Subject-এ পুরো ঘটনা লেখা। এক লাইনে বিষয়টুকু — “Application for a transfer certificate”। কারণ Body-তে লিখবে।
নিজের নাম-ঠিকানা উপরে লেখা। ইংরেজি দরখাস্তে নিজের পরিচয় নিচে যায়, উপরে নয়। এটা বাংলা দরখাস্তের সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে হয়।
কারণটা আবেগ দিয়ে লেখা। “I am very poor, please help me” — এভাবে নয়। তথ্য দিয়ে লেখো: বাবার পেশা কী, পরিবারে কতজন, তোমার ফলাফল কেমন। তথ্য থাকলে আবেদন জোরালো হয়।
ছুটির দরখাস্তে দিনের সংখ্যা না লেখা। কত দিনের ছুটি চাইছ সেটা স্পষ্ট লিখতে হবে, নাহলে আবেদনটাই অসম্পূর্ণ।
এখন নিজে চেষ্টা করো
উপরের নমুনাটা সামনে রেখে ছাড়পত্রের (transfer certificate) জন্য একটা দরখাস্ত লেখো, ১৫০ থেকে ১৭০ শব্দে।
শুরু আর শেষ হুবহু নমুনা থেকে নাও। শুধু Subject লাইনটা বদলাও, আর মাঝের অনুচ্ছেদে লেখো কেন স্কুল ছাড়তে হচ্ছে।
লেখা হয়ে গেলে গুনে দেখো ছয়টা অংশই আছে কিনা — তারিখ, প্রাপক, Subject, Sir, Body, Closing। একটাও বাদ পড়লে নম্বর কাটা যাবে, আর এই ছয়টা গোনা এক মিনিটেরও কম কাজ।
2 thoughts on “SSC Application লেখার নিয়ম — এক কাঠামোয় সব দরখাস্ত”