অধ্যায় ১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত — ১.৪ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা (Ethics of ICT usages)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · HSC | টেক্সটবুক

Practiceটেক্সটবুক ভিত্তিক পড়াশোনা

🔗 ২৮. ১.৪ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা (Ethics of ICT usages)

https://bdacademic.com/prep/hsc/text/ict/%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A7%A7-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%A4/%E0%A7%A7%E0%A7%AA-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE-ethics-of-ict-usages/

নৈতিকতা হচ্ছে এক ধরনের মানদণ্ড যা আচরণ, কাজ এবং পছন্দের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। এটি উঁচিত্য ও অনুচিত্যের মাপকাঠিও বটে, কেননা মানবধর্ম এবং নৈতিকতা অঙ্গাঞ্সিভাবে জড়িত। অনৈতিক ও বেআইনি এক বিষয় নয়৷ অনেক অনৈতিক কাজ আইন বিরুদ্ধ নয়, কিন্তু সকল আইন বিরুদ্ধ কাজ অবশ্যই অনৈতিক। তবে সাম্প্রতিককালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা ধরনের অনৈতিক এবং অন্যায় কাজের মাত্রা এত বেড়ে গেছে যে পৃথিবীর অনেক দেশেই সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। কাজেই একসময় যে কাজটি শুধু অনৈতিক ছিল সেটি অনেকক্ষেত্রে এখন বেআইনি হয়ে গেছে, অর্থাৎ সামনাসামনি জেল হতে পারে।
যেহেতু পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ কোনো না কোনোভাবে তথ্য প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত তাই এর ব্যবহারের নৈতিকতার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া উচিত। গুরুত্ব না দেয়া হলে একজন অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করে খুব সহজেই অন্যায় এবং অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা সম্পর্কে অবহিত এবং যথাযথভাবে রপ্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
কম্পিউটার ইথিক্স ইনস্টিটিউট (Computer Ethics institute) ১৯৯২ সালে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিষয়ে দশটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:
১. তুমি কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করবে না।
২. তুমি অন্যের কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। ৩. তুমি অন্য কারও ফাইলে অনধিকার প্রবেশ করবে না।
৪. তুমি চুরির উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার করবে না।
৫. তুমি মিথ্যা তথ্যের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করবে AT
৬. তুমি লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার ও কপি করবে না।
৭. তুমি বিনা অনুমতিতে কম্পিউটার সংক্রান্ত অন্যের রিসোর্স ব্যবহার করবে না৷
৮. তুমি অন্যের কাজকে নিজের কাজ বলে চালিয়ে দেবে AT
৯. তুমি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের আগে সমাজের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করবে।
১০. তুমি কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় অন্যের ভালোমন্দ বিবেচনা করবে এবং শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করবে।
কম্পিউটার, ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় উপরে বর্ণিত তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত নৈতিক নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা খুবই জরুরি।
আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক ধরনের অনৈতিক এবং অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয় যা সাইবার অপরাধ নামে পরিচিত। এর মধ্যে বহুল প্রচলিতগুলো হচ্ছে:
হ্যাকিং (Hacking): কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডেটায় অননুমোদিতভাবে অধিকার প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। এতে ব্যক্তির তথ্যের বা সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করা হয় এবং অনেকক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি না করে শুধু নিরাপত্তা ত্ুটি সম্পর্কে কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে জানান দেওয়া হয়। যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে।
ফিশিং (Phishing): ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং তারপর ব্যবহারকারীর আ্যাকসেস কোড, পিন নম্বর, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ড ও ব্যাংক ত্যাকাউন্ট নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।
স্প্যামিং (Spaming): অনাকাঙ্কিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই বা কোনো গ্ুপের মেসেজ বোর্ডে প্রবেশ করেন তখন স্প্যামাররা সেখান থেকে ই-মেইল ত্যাড়েস সংগ্রহ করে সফটওয়্যার পাইরেসি (Software piracy): সফটওয়্যার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রযুক্তিপণ্য, যা প্রোগ্রামারগণ পেশাগত দক্ষতা, মেধা আর মননের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে তৈরি করে থাকেন এবং এগুলোর তীরাই স্বত্বাধিকারী হন। লাইসেন্সবিহীনভাবে বা স্বত্বাধিকারীর অনুমোদন ব্যতিরেকে এ ধরনের সফটওয়্যার কপি করা, নিজের নামে কিংবা কোনো প্রকার পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে ব্যবহারের সুযোগ নেওয়া পাইরেসির আওতায় AS! Business Software Alliance (95/৯)-এর সূত্রমতে ব্যবহৃত সকল সফটওয়্যারের শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগই পাইরেটেড সফটওয়্যার। কপিরাইট আইন দ্বারা উন্নত দেশগুলোয় এই ধরনের অপরাধ প্রতিহত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism)

কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো লেখা সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনাকর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্রেজিয়ারিজম বলেঅর্থাৎ অন্যের লেখা বা তথ্য স্বন্বাধিকারীর অনুমতি ছাড়া নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াই হলো প্লেজিয়ারিজম। প্রেজিয়ারিজম এর বাংলা পরিভাষা হলো কুন্তীলকবৃত্তি। অনেক সময় কোনো লেখার গুরুত্ৃপূর্ণ eR নকল করলে তাও প্রেজিয়ারিজমের আওতায় পড়ে। প্রেজিয়ারিজম একটি বেআইনি কাজ, সম্মিলিতভাবে প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধ করা উচিৎ

ইদানীং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রেজিয়ারিজম অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো উচ্চতর চিন্তনদক্ষতা অর্জন করা | অর্থাৎ কোন বিষয় তা যতই জটিল হোক না কেন তা বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সংক্ষেপণ বা নতুন ধারণা প্রবর্তন করার দক্ষতা অর্জন করা হলো শিক্ষা। প্রেজিয়ারিজম বা কুন্তীলকবৃত্তির কারণে শিক্ষার্থীদের এই দক্ষতা অর্জনের কাজটি বাধাগ্রস্থ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রেজিয়ারিজমকে নীতিগতভাবে একটি জটিল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
9.8.9: প্লেমারিজমের প্রকারভেদ, কারণসমূহ এবং প্রতিরোধ:
১) ক্লোন (Clone) প্রেজিয়ারিজম: এতে একজন ব্যক্তি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই কোনো বিষয়বন্ত বা কনটেন্ট হুবহু কপি (নকল) করে এবং এটিকে তার নিজের বলে দাবি করে।
২) রিমিক্স (Remix) প্রেজিয়ারিজম: এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন উন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ৩) হাইবিভ (Hybrid) প্রেজিয়ারিজম: এই ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে উদ্ধৃত কোনো উত্স ডকুমেন্টকে উদ্ধৃতি ছাড়াই একটি নতুন ডকুমেন্ট হিসাবে অনুলিপি করে নতুনভাবে সাজানো হয় |
8) রিসাইকেল (Recycle) প্রেজিয়ারিজম: এটি সঠিক উদ্ধৃতি ছাড়াই নিজের পূর্ববর্তী কোন কনটেন্ট বা ডকুমেন্ট থেকে ধার নেওয়া বা পুর্নব্যবহার করার কাজকে বোঝায় | Recycle গ্লেজিয়ারিজমকে স্ব-চৌর্যবৃত্তি (self-plagiarism)s বলা হয়।
৫) 404 Error প্রেজিয়ারিজম: এতে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে কনটেন্ট অনুলিপি করে একটি নথি তৈরি করে এবং উদ্ধতিসহ একক নথি হিসেবে প্রস্তুত করে। কিন্তু যদি উদ্ধৃতিসমূহ ভুল বা ভুয়া হয় এবং এগুলো অস্তিত্বহীনতার পরিচয় দেয় তাহলে এটিকে 404 Error প্লেজিয়ারিজম বলা হয়।
৬) Aggregator প্লেজিয়ারিজম: এই ক্ষেত্রে লিখিত কনটেন্ট বা ডকুমেন্টে যথাযথ সকল উদ্ধৃতি অন্তর্ভূক্ত থাকে কিন্তু এতে কোনো মুল কাজ থাকে না।
৭) রি-টুইট (Re-tweet) প্লেজিয়ারিজম: সঠিকভাবে উৎ্সসমূহ উদ্ধীত করে লিখিত কনটেন্ট বা ডকুমেন্টটি নিখুত বলে প্রতীয়মান হওয়ার পরও যদি এটি অন্য কোন মূল-কনটেন্ট এর কাঠামো বা শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় তবে এটিকে বলা হয় রি-টুইট প্রেজিয়ারিজম।

  • বর্তমান যুগে কপি (Copy) এবং পেস্ট (Paste) ফাংশনের সাহায্যে বিনা পরিশ্রমে অতি সহজে ইন্টারনেট হতে কোনো আর্টিকেল, লেখা বা তথ্য আংশিক বা সম্পূর্ণ অনুলিপি করে বা তা নিজের নামে প্রকাশ করা সহজ।
  • প্রেজিয়ারিজম সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব, অর্থাৎ উৎস উল্লেখ না করে কারও লেখা ব্যবহার করলে সেটা যে সেই প্রতারণা সে সম্বন্ধে ধারণা না থাকা।
  • ইন্টারনেটের বিপুল তথ্যভান্ডার থেকে কপি করে নিজের বলে প্রকাশ করলে কেউ বুঝতে বা জানতে পারবে না এরুপ আত্মবিশ্বাস থাকা |
  • নিজে সময়, মেধা ও শ্রম ব্যয় না করে সহজে অন্যের তৈরি করা বিষয় ব্যবহারের প্রবণতা |
আমাদের কনটেন্ট তৈরি ও গবেষণার কাজের মৌলিকত্ব নিশ্চিত করতে, একাডেমিক সততা বজায় রাখতে এবং চৌর্যবৃত্তির সাথে জড়িত থাকার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে প্লেজিয়ারিজম চেক করা জরুরি (checker)প্রেজিয়ারিজম চেক করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার রয়েছেউদাহরণস্বরূপ- Grammarly, Plagi- um, Plagiarisma, Plagiarismchecker, Zerogpt, Quillbot, Quetext, Turnitin ইত্যাদির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। এসব সফটওয়্যার আমাদের কনটেন্টকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান কনটেন্টের সাথে তুলনা করে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো মিল থাকলে তা শনাক্ত করতে সহায়তা করে এবং ডকুমেন্ট চুড়ান্ত করার আগে আমাদেরকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সুযোগ দেয়

্েজিয়ারিজম এর ফলে উদ্ভূত সমস্যাবলি:
অন্যের কনটেন্ট অনুলিপি করায় লেখকের নিজস্ব চিন্তন দক্ষতা হাস পায়। Kgs ° প্রকৃত লেখক তার ন্যাধ্য স্বীকৃতি হতে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে টা
আর্থিক ভাবেও ক্ষতিথন্ত হন। phe ° ব্যাপক প্লেজিয়ারিজমের ফলে নতুন চিন্তা-ধারণা সৃষ্টি ব্যাহত হয়। 5 ees * ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেজিয়ারিজমের ফলে নৈতিক অবক্ষয় হয়। ৮৬৯
সময়, শ্রম ও মেধা প্রয়োগের মাধ্যমে কাজ করার প্রবণতা হ্রাস AT |
পলেজিয়ারিজম প্রতিরোধের উপায়:
প্লেজিয়ারিজম একটি বেআইনী ster পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি arg কপিরাইট আইনসহ প্লেজিয়ারিজম আইনও রয়েছে। বাংলাদেশে প্লেজারিজম আইন না থাকলেও কপিরাইট আইন আছে। এর আওতায় জনগণ আইনি সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া দেশের স্বাভাবিক আইনি ব্যবস্থায় একজন লেখক অথবা কোনও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চাইলেই সিভিল কোর্টে অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। সেটা ছাড়াও ১৯০৮ সালের যে দেওয়ানি কার্ধবিধি আছে সেই কার্যবিধি মৌলিক আইন হিসেবে কাজ করে। ফলে এই আইনের বিভিন্ন স্তরে যে বিধিবিধান আছে সেই বিধিতে প্লেজিয়ারিজমের ভিত্তিতে যে কেউ চাইলেই অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এছাড়া প্লেজিয়ারিজম সামগ্রিকভাবেও প্রতিরোধ করা উচিত। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক ধারণা দিতে হবে। অন্যের লেখা সরাসরি অনুলিপি করা, উদ্ধৃতি ছাড়া প্যারাফ্রেজ করা এবং অন্যদের গবেষণার ফলাফল নিজের নামে ব্যবহার করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড এক ধরনের চৌর্যবৃত্তি, এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ১.৪.২: সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ
সাইবার জগৎ সুরক্ষার জন্য সাধারণত প্রতিটি দেশেই সরকারের এক বা একাধিক ন্যাশনাল কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (NCIRT) থাকে। এটি একটি বিশেষায়িত সরকারি বা জাতীয় সংস্থা যা এ দেশের গুরুতৃপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো (0]]- Critical Information Infrastructure) রক্ষা করার জন্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি বা জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘট নাসমূহের বাংলাদেশ সরকারের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (907) e-GOV CIRT), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC), যা বাংলাদেশের জাতীয় সংদ্থা হিসেবে কাজ করে। এর দায়িত্ব বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কম্পিউটার ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকির ঘটনা এবং কার্ষকলাপ পর্যালোচনা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সাইবারস্পেস সুরক্ষিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখা |
স্মার্ট প্রযুক্তি, স্মার্ট আচরণ, শিক্ষা, নিরাপদ তথ্যব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করা যেতে ACT | এজন্য ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে ভূমিকা পালন করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে আইন
“কম্পিউটার মিসইউজ GNF ১৯৯০” শিরোনামে বিশ্বের প্রথম সাইবার আইন প্রণয়ন ও বলবৎ করে যুক্তরাজ্য। করে। সেখানে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ২০০৮ সালে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিটও গঠন করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে প্রথম “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬” তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে সরকার এই আইন সংশোধন করে পর্যায়ক্রমে ২০১২ সালে “AAP আইন-২০১২”, ২০১৮ সালে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮” এবং ২০২৩ সালে “সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩” প্রয়োগ PA |
সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ এ নাগরিক সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান অপ্রতুল থাকার কারণে তা অপপ্রয়োগ ও নিপীড়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানকল্পে ২০২৫ সালে অন্তর্বতাঁকালীন সরকার “সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩” রহিত করে এবং “সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫” নতুনভাবে চালু করেন। “সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫” সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সর্বশেষ আইন যা আমাদের দেশে বর্তমানে বলবৎ আছে। এই আইনের ১৭ থেকে ২৯ ধারায় বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ও সাইবার অপরাধ ও তার দণ্ডের বিধান দেওয়া আছে। এখানে এই আইনের আংশিক উল্লেখ করা হলো-
৪ কোনো ব্যক্তি গুরুত্পূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোয় বেআইনি প্রবেশ করে ক্ষতিসাধন, বিনষ্ট বা অকার্যকরের চেষ্টা কিংবা কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা প্রোগ্রাম ধ্বংস/পরিবর্তন বা অকার্যকর করতে পারবেন না৷
© ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কম্পিউটার সিন্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারবেন না, সেখান থেকে কোনো তথ্য বা উদ্ধতাংশ বা উপান্তের অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন AT
ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে কারো সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি বা BAC ধারণ করতে পারবেন AT
ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে প্রচার বা অপপ্রচার কিংবা এতে মদদ দিতে পারবেন না।
৪ রাষ্ট্রের অখ্ডতা, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভাবমূর্তি BA হয় এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য অপপ্রচার বা কার্ষকলাপ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা জাতিগত ঘৃণা-উস্কানি বা বিভেদ/বিদ্বেষ সৃষ্টি করে কিংবা সামাজিকভাবে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয় এরুপ কোনো কার্যত্রম ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে করা যাবে না।
৬ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নষ্ট, অপমান বা অপদস্থ করা কিংবা ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন করা যাবে না।
৪ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক, বিমা ইত্যাদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে আর্থিক ক্ষতি বা তছরুপ কিংবা অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য ছুরি, তথ্য পাচার করা যাবে না।
ডিজিটাল আইনের আওতায় উল্লিখিত কৃত অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি এবং আর্থিক দণ্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
তাই আমাদের জীবনের অন্যান্য প্রতিটি সেক্টরের ন্যায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিবেক, বুদ্ধি ও বিবেচনাকে নৈতিকতার মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সবধরনের অপরাধমূলক কাজের প্রবণতা হতে পরিত্রাণ পেতে পারি!
আমরা যখন সাইবার ক্রাইম নিয়ে কথা বলি তখন সবসময়ই ব্যক্তিগত অপরাধ কিংবা ছোটখাটো অপরাধী সংগঠনের অপরাধ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে সারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো অনেক বড় বড় অপরাধ করে শুধু দোষী সাব্যস্তই হয়নি, তার জন্য শাস্তিও ভোগ করেছে। করতে দিয়ে অনেক বড় অপরাধ করেছিল। হোয়াটসত্যাপ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার জন্য তাদেরকে ১১০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালে আযাপেল কোম্পানিকে আয়ারল্যান্ডকে ১৪.৫ বিলিয়ন ইউরো ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ভঙ্জা করে অন্যান্য ছোট কোম্পানির অস্তিত্ব বিপন্ন করে বিশ্বাস Cet করার জন্য গুগলকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডেটা। যারা ডেটা নিয়ন্ত্রণ করে, তারা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করে। কাজেই একধরনের আশঙ্কা আছে যে পৃথিবীর মানুষের সচেতন না হলে পুরো পৃথিবী একসময় কয়েকটি দৈত্যাকৃতির সফটওয়্যার কোম্পানির হাতে নিয়ন্ত্রিত হবে। সেটি যেন না হতে পারে সেজন্য সবার সচেতন থাকার প্রয়োজন আছে।