হিসাববিজ্ঞানের অঙ্কে যোগ, বিয়োগ আর সামান্য গুণ ছাড়া কিছু লাগে না। ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত জানলেই যথেষ্ট।
তাহলে এত ভুল হয় কেন?
কারণ কঠিন অংশটা গণিত নয়, সিদ্ধান্ত। প্রতিটা লেনদেনে ঠিক করতে হয় — কোন হিসাবটা ডেবিট হবে আর কোনটা ক্রেডিট। এই একটা সিদ্ধান্ত ঠিক হলে বাকিটা যান্ত্রিক। ভুল হলে জাবেদা থেকে শুরু করে উদ্বৃত্তপত্র পর্যন্ত সবই ভুল হয়ে যায়, কারণ পুরোটা একটা শৃঙ্খল।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূল কথা — প্রতিটি লেনদেনের দুটি দিক থাকে, একটি ডেবিট ও একটি ক্রেডিট, এবং দুই দিকের অঙ্ক সবসময় সমান।
সেই এক সিদ্ধান্ত
বইয়ে পাঁচ শ্রেণির হিসাবের আলাদা নিয়ম দেওয়া থাকে। কিন্তু পুরোটা এক লাইনে ধরা যায়।
সম্পদ আর ব্যয় বাড়লে ডেবিট। বাকি সব — দায়, মূলধন, আয় — বাড়লে ক্রেডিট। কমলে ঠিক উল্টো।
| শ্রেণি | বাড়লে | কমলে |
|---|---|---|
| সম্পদ | ডেবিট | ক্রেডিট |
| ব্যয় | ডেবিট | ক্রেডিট |
| দায় | ক্রেডিট | ডেবিট |
| মালিকানা স্বত্ব | ক্রেডিট | ডেবিট |
| আয় | ক্রেডিট | ডেবিট |
একটা লেনদেন নিই। নগদে আসবাব কেনা হলো ৫০,০০০ টাকায়।
আসবাব একটা সম্পদ, আর সেটা বাড়ল — তাই ডেবিট। নগদও একটা সম্পদ, কিন্তু সেটা কমল — তাই ক্রেডিট।
আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট ৫০,০০০
নগদান হিসাব ক্রেডিট ৫০,০০০
প্রতিটা লেনদেনে ঠিক এভাবেই ভাবো — কোন দুটো হিসাব জড়িত, প্রতিটা কোন শ্রেণির, আর বাড়ছে না কমছে। তিনটে প্রশ্ন, তারপর উত্তর নিজেই আসে।
যাচাইয়ের সূত্র
সম্পদ = দায় + মালিকানা স্বত্ব
বিস্তারিত রূপে: সম্পদ = দায় + (মূলধন + আয় − ব্যয় − উত্তোলন)
যেকোনো লেনদেনের পরেও এই সমীকরণ সমান থাকবেই। উত্তর ঠিক হলো কিনা দেখার দ্রুততম উপায় এটাই।
শৃঙ্খলটা
লেনদেন → জাবেদা → খতিয়ান → রেওয়ামিল → সমন্বয় দাখিলা → আর্থিক বিবরণী।
পরীক্ষায় সাধারণত এর কোনো একটা অংশ চাওয়া হয়। কিন্তু আগের ধাপে ভুল থাকলে পরের সবগুলো ভুল হবে — তাই জাবেদায় সময় দাও, তাড়াহুড়ো কোরো না।
রেওয়ামিল না মিললে
ঘাবড়ানোর আগে পার্থক্যটা দেখো। এই দুটো পরীক্ষা অনেক সময় বাঁচায়।
পার্থক্য ২ দিয়ে ভাগ যায়? তাহলে কোনো একটা অঙ্ক ভুল দিকে বসেছে। পার্থক্যকে ২ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটা পাবে, সেটাই খুঁজে বের করো।
পার্থক্য ৯ দিয়ে ভাগ যায়? তাহলে অঙ্কের সংখ্যা উল্টে লেখা হয়েছে — ৫৪ লিখতে গিয়ে ৪৫।
এর কোনোটাই না হলে ডেবিট আর ক্রেডিট কলাম আলাদা করে যোগ করো আবার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটা যোগেই।
মনে রাখো কোনগুলো কোন দিকে বসে — ডেবিট উদ্বৃত্ত হয় সম্পদ, ক্রয়, ব্যয়, উত্তোলন ও দেনাদারের। ক্রেডিট উদ্বৃত্ত হয় মূলধন, দায়, বিক্রয়, আয় ও পাওনাদারের।
সমন্বয় দাখিলা — যেখানে সবচেয়ে বেশি নম্বর যায়
বকেয়া খরচ, অগ্রিম খরচ, প্রাপ্য আয়, অনুপার্জিত আয়, অবচয়, অনাদায়ী পাওনা।
এদের প্রত্যেকটাকে দুই জায়গায় বসাতে হয় — একবার আয়-ব্যয় বিবরণীতে, একবার উদ্বৃত্তপত্রে।
শিক্ষার্থীরা এক জায়গায় বসিয়ে অন্যটা ভুলে যায়, আর তারপর উদ্বৃত্তপত্র মেলে না। এড়ানোর উপায় সরল — প্রশ্নের সমন্বয়গুলোর তালিকা আলাদা করে লিখে নাও, আর প্রতিটা দুই জায়গায় বসানোর পর টিক দাও। সবগুলোয় টিক পড়লে তবেই এগোও।
অবচয়ে আরেকটা বিষয় দেখে নিও। সরলরৈখিক পদ্ধতিতে প্রতি বছর একই পরিমাণ অবচয়, কিন্তু ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে প্রতি বছর কমতে থাকে। প্রশ্নে কোনটা বলা আছে সেটা আগে পড়ে নাও — অনুমান করে এগিয়ো না।
খাতায় উপস্থাপন
ছক এঁকে কাজ করো। হিসাববিজ্ঞানে উপস্থাপনার জন্য আলাদা নম্বর বরাদ্দ থাকে, আর ছক ছাড়া লিখলে অঙ্ক ঠিক হলেও পুরো নম্বর মেলে না।
জাবেদায় ক্রেডিট হিসাবটা একটু ডানে সরিয়ে লেখো, আর নিচে বন্ধনীতে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও।
শেষে যোগফল দুবার মিলিয়ে নাও। বেশিরভাগ ভুল হিসাবের ভুল নয় — যোগের ভুল।
যেভাবে অনুশীলন করলে ফল আসে
প্রতিদিন একটা অঙ্ক। এক মাস নিয়মিত করলে পরীক্ষার আগে আলাদা করে পড়ার দরকারই হয় না।
আর শুরুতে কয়েক সপ্তাহ শুধু জাবেদা দাখিলা করো — দিনে দশটা লেনদেন, প্রতিটার পাশে লিখো কোন শ্রেণি আর বাড়ছে না কমছে। ওই একটা সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে গেলে বাকি পুরো বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে।