ভাবো তো, একজন পরীক্ষক দিনে দুইশো খাতা দেখছেন। তার মধ্যে দেড়শোটায় Traffic Jam-এর প্যারাগ্রাফ, আর সেগুলোর একশোটা শুরু হয়েছে হুবহু একই বাক্যে।
একশো এক নম্বর খাতাটা যদি অন্যরকম শুরু হয়, সেটা চোখে পড়বে।
এটাই মুখস্থ প্যারাগ্রাফের সমস্যা। ভুল নয়, কিন্তু আলাদা করে কিছু দেয়ও না। আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি — যেদিন অচেনা টপিক আসবে, মুখস্থ করা কিছুই কাজে লাগবে না।
তাই টপিক মুখস্থ না করে ছাঁচ শেখো। প্যারাগ্রাফ হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে লেখা একটানা কয়েকটি বাক্য, যেখানে একটি topic sentence, কয়েকটি supporting sentence এবং একটি concluding sentence থাকে। HSC ইংরেজি ১ম পত্রে এখানে ১০ নম্বর, শব্দসংখ্যা সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০।
চারটে ছাঁচ
যত টপিক আসে, প্রায় সবই এই চারটার কোনো একটায় ফেলা যায়।
ছাঁচ ১ — সমস্যাভিত্তিক
Traffic Jam, Price Hike, Load Shedding, Drug Addiction, Food Adulteration, Environmental Pollution, Early Marriage, Dowry System।
ধাপ ছয়টা: সমস্যাটা কী → কতটা ব্যাপক → কেন ঘটে → কী ক্ষতি হয় → কীভাবে সমাধান সম্ভব → শেষ কথা।
এই ছয় ধাপ জানা থাকলে উপরের যেকোনো টপিক লেখা যায়, এমনকি যেটা কখনো পড়োনি সেটাও।
ছাঁচ ২ — বর্ণনামূলক
A Rainy Day, A Winter Morning, A Village Fair, Pahela Baishakh, A Book Fair, Victory Day।
ধাপ: কী জিনিস → কখন ও কোথায় → কী কী চোখে পড়ে → মানুষ কী করে → তোমার নিজের অনুভূতি → শেষ কথা।
এই ছাঁচে ইন্দ্রিয় ব্যবহার করো — কী দেখা যায়, কী শোনা যায়, কী গন্ধ পাওয়া যায়। বর্ণনামূলক লেখায় এটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
ছাঁচ ৩ — প্রযুক্তি ও দুই দিক
Internet, Facebook, Mobile Phone, Online Class, Uses and Abuses of Science, Digital Bangladesh।
ধাপ: জিনিসটা কী → কীভাবে কাজে লাগে → কী কী উপকার → কী কী অপব্যবহার → কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায় → শেষ কথা।
ছাঁচ ৪ — অভিজ্ঞতা ও অভ্যাস
My First Day at College, A Journey by Train, Physical Exercise, Tree Plantation, Female Education।
ধাপ: প্রসঙ্গ → কী ঘটেছিল বা কী করা হয় → কেন গুরুত্বপূর্ণ → কী শিখলে বা কী লাভ → শেষ কথা।
নম্বর আসলে কোথা থেকে আসে
পরীক্ষক চারটে জিনিস দেখেন — বিষয়ের সাথে মিল, বাক্যগঠনের শুদ্ধতা, শব্দের বৈচিত্র্য, আর লেখার ধারাবাহিকতা।
এর মধ্যে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে অবহেলিত। বাক্যগুলো যদি বিচ্ছিন্নভাবে বসে থাকে — একটার সাথে আরেকটার সেতু না থাকে — তাহলে প্রতিটা বাক্য নির্ভুল হলেও লেখাটা কাঁচা লাগে।
সেতু বানাতে connector ছড়িয়ে দাও। However, moreover, as a result, in addition, on the other hand, therefore, consequently। দুই-তিনটে ব্যবহার করলেই লেখা পরিণত শোনায়।
আর শব্দের পুনরাবৃত্তি এড়াও। Important তিনবার লেখার বদলে একবার significant, একবার crucial — এটুকুতেই আলাদা নম্বর আছে।
যেসব ভুল নম্বর কমায়
প্যারাগ্রাফ ভেঙে ফেলা। প্যারাগ্রাফ মানে একটাই অনুচ্ছেদ। তিন ভাগে ভাগ করলে সেটা রচনা হয়ে যায়, আর নির্দেশ না মানার জন্য নম্বর কাটা যায়।
শব্দসীমা না মানা। একশো শব্দে থেমে গেলে বিষয়টা অগভীর লাগে। চারশো লিখলে বাকি প্রশ্নের সময় থাকে না।
বানানো পরিসংখ্যান। “৮৭ শতাংশ মানুষ” লেখার দরকার নেই। A large number of বা a significant portion লিখলেই চলে, আর ধরা পড়ার ঝুঁকিও থাকে না।
ভূমিকায় সময় নষ্ট। প্রথম বাক্যেই বিষয়ে ঢুকে যাও। “পৃথিবী আজ এক সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে” জাতীয় শুরু কোনো তথ্য দেয় না, শুধু জায়গা খায়।
প্রস্তুতির পরিকল্পনা
বিশটা প্যারাগ্রাফ মুখস্থ করার সময়ে চারটে ছাঁচ আয়ত্ত করা অনেক বেশি লাভজনক। প্রতিটা ছাঁচের একটা করে প্যারাগ্রাফ নিজের হাতে লেখো, ছাঁচের ধাপগুলো পাশে রেখে।
লেখার পরদিন নিজের লেখাটা আবার পড়ো। একদিন পরে পড়লে নিজের বানান আর বাক্যগঠনের ভুল নিজেই চোখে পড়ে — লেখার দিন পড়লে পড়ে না।
আর যেসব শব্দ ও বাক্যাংশ বারবার কাজে লাগছে, সেগুলো আলাদা এক পাতায় জমাও। পরীক্ষার আগের দিন ওই এক পাতাই যথেষ্ট, বিশটা মুখস্থ প্যারাগ্রাফ নয়।