২য় পত্র নিয়ে একটা সুখবর আছে, যেটা অনেকে জানে না।
১ম পত্রে অধ্যায়গুলো একটার ওপর আরেকটা দাঁড়ানো — ভেক্টর না বুঝলে গতিবিদ্যা হয় না, গতিবিদ্যা না বুঝলে বলবিদ্যা হয় না। একটা জায়গায় আটকে গেলে পুরো প্রস্তুতি থেমে যায়।
২য় পত্র সেরকম নয়। এখানে বেশিরভাগ অধ্যায় তুলনামূলক স্বাধীন। তড়িৎ না পড়ে আলোকবিজ্ঞান পড়া যায়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ধরার জন্য আগের অধ্যায় লাগে না। মানে কোথাও আটকে গেলে অন্য অধ্যায়ে সরে গিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারো।
এই স্বাধীনতাটা কাজে লাগানোই ২য় পত্রের আসল কৌশল।
এগারোটি অধ্যায়
১. তাপগতিবিদ্যা — তাপ ও কাজের সম্পর্ক, তাপগতিবিদ্যার সূত্র, ইঞ্জিনের দক্ষতা, এনট্রপি। ১ম পত্রের গ্যাসের অধ্যায় পড়া থাকলে এটা সহজ লাগবে।
২. স্থির তড়িৎ — কুলম্বের সূত্র, তড়িৎ ক্ষেত্র ও বিভব, ধারক। তড়িৎ অংশের ভিত।
৩. চল তড়িৎ — ওহমের সূত্র, রোধের সমবায়, কার্শফের সূত্র, বর্তনী বিশ্লেষণ। অঙ্ক সবচেয়ে বেশি এখানেই।
৪. তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব — চৌম্বক ক্ষেত্র, গতিশীল আধানের ওপর বল, চৌম্বক পদার্থের শ্রেণিবিভাগ।
৫. তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ — ফ্যারাডে ও লেঞ্জের সূত্র, ট্রান্সফরমার, AC বর্তনী।
৬. জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান — প্রতিসরণ, লেন্স ও দর্পণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, অপটিক্যাল ফাইবার। রশ্মিচিত্র আঁকতে পারাটাই মূল কাজ।
৭. ভৌত আলোকবিজ্ঞান — ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন। ইয়ংয়ের দ্বি-চির পরীক্ষা এখানকার কেন্দ্রবিন্দু।
৮. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা — আপেক্ষিকতা, ফটোতড়িৎ ক্রিয়া, কোয়ান্টাম ধারণার শুরু।
৯. পরমাণুর মডেল ও নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান — বোর মডেল, তেজস্ক্রিয়তা, অর্ধায়ু, নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া।
১০. সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স — ডায়োড, ট্রানজিস্টর, লজিক গেট। সংখ্যা পদ্ধতি ও গেট আইসিটির সাথেও মেলে।
১১. জ্যোতির্বিজ্ঞান — মহাবিশ্বের গঠন ও তারার বিবর্তন। বর্ণনামূলক ও তুলনামূলক ছোট।
কোন ক্রমে পড়লে সুবিধা
তড়িৎ সংক্রান্ত চারটি অধ্যায় (২ থেকে ৫) একসাথে ধরো। এদের মধ্যে সরাসরি যোগ আছে — স্থির তড়িৎ না বুঝে চল তড়িৎ হয় না, চল তড়িৎ না বুঝে চৌম্বক ক্রিয়া হয় না। আলাদা আলাদা সময়ে পড়লে প্রতিবার আগেরটা মনে করতে সময় যায়।
দুটো আলোকবিজ্ঞান পাশাপাশি রাখো — জ্যামিতিক আগে, ভৌত পরে।
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান আর নিউক্লিয়ার একসাথে। এই দুটো অধ্যায় নম্বর তোলার জন্য চমৎকার — ধারণাভিত্তিক প্রশ্ন বেশি, অঙ্ক তুলনামূলক সহজ, আর বহুনির্বাচনিতে নিয়মিত আসে।
তাপগতিবিদ্যা আর জ্যোতির্বিজ্ঞান যেকোনো সময়ে — অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করে না।
তড়িৎ অংশটা যেভাবে সামলাবে
২য় পত্রে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আটকায় বর্তনীর অঙ্কে। কারণটা সাধারণত বোঝার অভাব নয় — চর্চার অভাব।
একটা নিয়ম মনে রাখলে অর্ধেক সমস্যা মিটে যায়: শ্রেণি সমবায়ে প্রবাহ সমান, বিভব ভাগ হয়; সমান্তরাল সমবায়ে বিভব সমান, প্রবাহ ভাগ হয়। যেকোনো বর্তনীর অঙ্কে প্রথম কাজ হলো দেখা কোন অংশটা শ্রেণিতে আর কোনটা সমান্তরালে।
আর প্রতিটা বর্তনীর অঙ্কে চিত্র আঁকো, এমনকি প্রশ্নে না চাইলেও। মাথায় রেখে হিসাব করতে গেলে কোন রোধ কোথায় আছে সেটা গুলিয়ে যায়।
বইটা নামাবে যেখান থেকে
এনসিটিবির ওয়েবসাইটে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তালিকা থেকে পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র নামিয়ে নাও। ঠিকানার শেষে .gov.bd আছে কিনা দেখে নিও।
এনসিটিবি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান →
এই বইয়ে বর্তনীর চিত্র, রশ্মিচিত্র আর লজিক গেটের প্রতীক প্রচুর। ফোনে এসব দেখা কষ্টকর, তাই অন্তত তড়িৎ ও আলোকবিজ্ঞানের অধ্যায়গুলো প্রিন্ট করে নেওয়া ভালো।
ব্যবহারিক ও প্রস্তুতি
২য় পত্রের ব্যবহারিকে বর্তনী সাজানো, রোধ নির্ণয়, লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বের করা — এসব থাকে। যে অধ্যায় পড়ছো সেই সংক্রান্ত ব্যবহারিকটা তখনই খাতায় লিখে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আর একটা কথা: বহুনির্বাচনি অংশের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নাও। ২য় পত্রে সূত্র ও ধারণাভিত্তিক প্রশ্ন প্রচুর আসে, আর সেগুলো দ্রুত চেনার অভ্যাস আলাদা করে তৈরি করতে হয়।
পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র MCQ — অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাসহ উত্তর
সংশ্লিষ্ট লেখা
পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র বই PDF ডাউনলোড
HSC পদার্থবিজ্ঞান সিলেবাস — ১ম ও ২য় পত্র
HSC সিলেবাস — বিজ্ঞান বিভাগ
শেষে একটা কথা। ২য় পত্রের অধ্যায়গুলো স্বাধীন বলে অনেকে ভাবে যেকোনোটা বাদ দিয়ে দিলেও চলবে। সৃজনশীলে হয়তো চলে, কিন্তু বহুনির্বাচনিতে পুরো সিলেবাস থেকেই প্রশ্ন আসে — সেখানে বাদ দেওয়া অধ্যায়ের নম্বরটা সরাসরি হাতছাড়া হয়ে যায়। স্বাধীনতাটা ক্রম বদলানোর জন্য, অধ্যায় বাদ দেওয়ার জন্য নয়।