বহুনির্বাচনি অংশ নিয়ে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। সৃজনশীলের জন্য মাসের পর মাস প্রস্তুতি চলে, আর MCQ-র জন্য আলাদা করে কিছুই করা হয় না — ধরে নেওয়া হয় বই পড়া থাকলেই ওটা হয়ে যাবে।
বাস্তবে হয় না। MCQ-তে যা লাগে তা হলো দ্রুত চেনা — প্রশ্ন পড়ে সাথে সাথে বুঝে ফেলা কোন সূত্রটা লাগবে। সেটা আলাদা অভ্যাস, আর অভ্যাস তৈরি হয় শুধু প্রশ্ন করে করে।
যেভাবে ব্যবহার করবে
নিচে ২য় পত্রের বিভিন্ন অধ্যায় থেকে ১৫টি প্রশ্ন আছে। উত্তরগুলো একদম শেষে আলাদা করে দেওয়া, যাতে চোখে না পড়ে।
একটা কাগজে ১ থেকে ১৫ লিখে ফেলো, ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট সময় নাও, তারপর নিচে নেমে উত্তর মিলিয়ে দেখো। সময় ধরে করাটা জরুরি — না জেনে ভুল করা আর জেনেও সময়ের অভাবে ভুল করা দুটো আলাদা সমস্যা, আর সমাধানও আলাদা।
প্রশ্ন
১. একটি কার্নো ইঞ্জিন 500 K উষ্ণতার উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে 300 K উষ্ণতার তাপগ্রাহকে বর্জন করে। ইঞ্জিনটির দক্ষতা কত?
(ক) 20% (খ) 40% (গ) 60% (ঘ) 80%
২. আদর্শ গ্যাসের সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ শক্তির পরিবর্তন কত?
(ক) শূন্য (খ) ধনাত্মক (গ) ঋণাত্মক (ঘ) অসীম
৩. দুটি বিন্দু আধানের মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে তাদের মধ্যকার বল কী হবে?
(ক) দ্বিগুণ (খ) অর্ধেক (গ) এক-চতুর্থাংশ (ঘ) চারগুণ
৪. একটি সমান্তরাল পাত ধারকের পাতদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে ধারকত্ব কী হবে?
(ক) দ্বিগুণ (খ) চারগুণ (গ) অর্ধেক (ঘ) অপরিবর্তিত
৫. 2 Ω ও 3 Ω মানের দুটি রোধ সমান্তরালে যুক্ত করলে তুল্য রোধ কত?
(ক) 5 Ω (খ) 2.5 Ω (গ) 1.5 Ω (ঘ) 1.2 Ω
৬. শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত রোধগুলোর ক্ষেত্রে কোন রাশিটি সমান থাকে?
(ক) বিভব পার্থক্য (খ) তড়িৎ প্রবাহ (গ) ক্ষমতা (ঘ) রোধ
৭. চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকের সমান্তরালে গতিশীল একটি আহিত কণার ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান কত?
(ক) qvB (খ) qvB/2 (গ) শূন্য (ঘ) অসীম
৮. লেঞ্জের সূত্র কোন নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?
(ক) ভরের সংরক্ষণ (খ) শক্তির সংরক্ষণ (গ) ভরবেগের সংরক্ষণ (ঘ) আধানের সংরক্ষণ
৯. আদর্শ ট্রান্সফরমারে মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীর কোন রাশিটি সমান থাকে?
(ক) বিভব (খ) প্রবাহ (গ) ক্ষমতা (ঘ) পাক সংখ্যা
১০. 1.5 প্রতিসরাঙ্কবিশিষ্ট কাচের সংকট কোণ প্রায় কত?
(ক) 30° (খ) 42° (গ) 48° (ঘ) 60°
১১. ইয়ংয়ের দ্বি-চির পরীক্ষায় চির দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে ফ্রিঞ্জ প্রস্থ কী হবে?
(ক) দ্বিগুণ (খ) অর্ধেক (গ) চারগুণ (ঘ) অপরিবর্তিত
১২. ফটোতড়িৎ ক্রিয়ায় আপতিত আলোর তীব্রতা বাড়ালে কী বাড়ে?
(ক) ইলেকট্রনের সর্বোচ্চ গতিশক্তি (খ) নিঃসৃত ইলেকট্রনের সংখ্যা (গ) সূচন কম্পাঙ্ক (ঘ) কার্যাপেক্ষক
১৩. বোর মডেল অনুসারে হাইড্রোজেন পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথের ব্যাসার্ধ প্রথম কক্ষপথের কতগুণ?
(ক) 2 গুণ (খ) 4 গুণ (গ) 8 গুণ (ঘ) 16 গুণ
১৪. তিনটি অর্ধায়ু অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের কত অংশ অবশিষ্ট থাকে?
(ক) 1/2 (খ) 1/4 (গ) 1/8 (ঘ) 1/16
১৫. n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে বিশুদ্ধ সিলিকনে কোন ধরনের মৌল যোগ করা হয়?
(ক) ত্রিযোজী (খ) চতুর্যোজী (গ) পঞ্চযোজী (ঘ) দ্বিযোজী
উত্তর ও ব্যাখ্যা
১ — (খ) 40%। η = 1 − T₂/T₁ = 1 − 300/500 = 0.4। উষ্ণতা সবসময় কেলভিনে বসাতে হয়; সেলসিয়াসে দিলে উত্তর ভুল আসবে।
২ — (ক) শূন্য। আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি কেবল উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে। সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় উষ্ণতা অপরিবর্তিত, তাই ΔU = 0। গৃহীত সব তাপ কাজে রূপান্তরিত হয়।
৩ — (গ) এক-চতুর্থাংশ। কুলম্বের সূত্রে F ∝ 1/r²। দূরত্ব দ্বিগুণ হলে বল চার ভাগের এক ভাগ হয়।
৪ — (গ) অর্ধেক। C = ε₀A/d, অর্থাৎ ধারকত্ব দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক।
৫ — (ঘ) 1.2 Ω। 1/R = 1/2 + 1/3 = 5/6, সুতরাং R = 1.2 Ω। মনে রাখার উপায় — সমান্তরাল সমবায়ে তুল্য রোধ সবসময় ছোট রোধটির চেয়েও কম। উত্তরে 2 Ω-এর বেশি কিছু দেখলে হিসাব ছাড়াই বাদ।
৬ — (খ) তড়িৎ প্রবাহ। শ্রেণিতে একই পথ, তাই প্রবাহ সমান আর বিভব ভাগ হয়ে যায়। সমান্তরালে ঠিক উল্টো — বিভব সমান, প্রবাহ ভাগ হয়।
৭ — (গ) শূন্য। F = qvB sinθ। সমান্তরাল হলে θ = 0°, sin 0° = 0। সর্বোচ্চ বল পাওয়া যায় গতি ক্ষেত্রের লম্ব হলে।
৮ — (খ) শক্তির সংরক্ষণ। আবিষ্ট প্রবাহ তার উৎপত্তির কারণকে বাধা দেয়। বাধা না দিলে বিনা শক্তিতে শক্তি পাওয়া যেত, যা অসম্ভব।
৯ — (গ) ক্ষমতা। আদর্শ ট্রান্সফরমারে কোনো ক্ষয় ধরা হয় না, তাই ইনপুট ও আউটপুট ক্ষমতা সমান। বিভব বাড়লে প্রবাহ কমে, প্রবাহ বাড়লে বিভব কমে।
১০ — (খ) 42°। sin C = 1/n = 1/1.5 ≈ 0.67, সুতরাং C ≈ 42°। কাচ-বায়ু জোড়ার এই মানটা মনে রাখা ভালো, বারবার আসে।
১১ — (খ) অর্ধেক। ফ্রিঞ্জ প্রস্থ β = λD/d। d দ্বিগুণ হলে β অর্ধেক। পর্দার দূরত্ব D বাড়ালে উল্টোটা হয় — ফ্রিঞ্জ চওড়া হয়।
১২ — (খ) নিঃসৃত ইলেকট্রনের সংখ্যা। তীব্রতা বাড়ানো মানে বেশি ফোটন, তাই বেশি ইলেকট্রন। কিন্তু প্রতিটি ইলেকট্রনের গতিশক্তি নির্ভর করে আলোর কম্পাঙ্কের ওপর। এই পার্থক্যটাই এই অধ্যায়ের সবচেয়ে পছন্দের প্রশ্ন।
১৩ — (খ) 4 গুণ। বোর মডেলে r ∝ n²। দ্বিতীয় কক্ষপথে n = 2, তাই ব্যাসার্ধ 2² = 4 গুণ।
১৪ — (গ) 1/8। প্রতি অর্ধায়ুতে অর্ধেক হয়ে যায়, তাই তিনবার পরে (1/2)³ = 1/8 অবশিষ্ট থাকে।
১৫ — (গ) পঞ্চযোজী। পঞ্চযোজী মৌল যোগ করলে একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন মুক্ত থাকে, তাই সংখ্যাগুরু আধানবাহক ইলেকট্রন — এ থেকেই “n” (negative)। ত্রিযোজী যোগ করলে হতো p-টাইপ।
নিজের ফলাফল যেভাবে পড়বে
১২-১৫ সঠিক — ভালো অবস্থা। এখন গতি বাড়ানোর দিকে মন দাও।
৮-১১ সঠিক — ভিত আছে, কিন্তু কিছু অধ্যায় দুর্বল। কোন প্রশ্নগুলো ভুল হলো দেখে ঠিক ওই অধ্যায়গুলো আবার পড়ো।
৮-এর কম — এখনই আরও একবার বই পড়া দরকার। MCQ অনুশীলন কাজে দেবে তার পরে; এখন করলে শুধু হতাশা বাড়বে।
MCQ-তে বারবার যেসব সম্পর্ক লাগে
২য় পত্রের বহুনির্বাচনিতে ঘুরেফিরে এই সম্পর্কগুলোই আসে। খাতার শেষ পাতায় লিখে রাখো।
কার্নো দক্ষতা: η = 1 − T₂/T₁
কুলম্বের সূত্র: F ∝ q₁q₂/r²
ধারকত্ব: C = ε₀A/d
শ্রেণি রোধ: R = R₁ + R₂ … | সমান্তরাল: 1/R = 1/R₁ + 1/R₂ …
চৌম্বক বল: F = qvB sinθ
সংকট কোণ: sin C = 1/n
ফ্রিঞ্জ প্রস্থ: β = λD/d
ফটোতড়িৎ: hf = W₀ + সর্বোচ্চ গতিশক্তি
বোর ব্যাসার্ধ: r ∝ n²
অর্ধায়ু: n বার পরে অবশিষ্ট = (1/2)ⁿ অংশ
সময় বাঁচানোর কৌশল
অপশন আগে পড়ো, তারপর প্রশ্ন। অনেক সময় অপশন দেখেই বোঝা যায় প্রশ্নটা কোন দিকে যাচ্ছে, আর দুটো অপশন সাথে সাথে বাদ দেওয়া যায়।
এককের দিকে তাকাও। রাশির একক না মিললে সেই অপশন হিসাব ছাড়াই বাদ।
মানের যৌক্তিকতা যাচাই করো। সমান্তরাল রোধ ছোট রোধের চেয়ে বড় হতে পারে না, দক্ষতা ১০০%-এর বেশি হতে পারে না, সংকট কোণ ৯০°-এর বেশি হতে পারে না। এভাবে হিসাব না করেই অনেক অপশন বাদ যায়।
আটকে গেলে দাগ দিয়ে এগিয়ে যাও। একটা প্রশ্নে দুই মিনিট আটকে থাকা মানে পরের তিনটা হারানো। সবগুলো ঘুরে আসার পর ফিরে এসো।
কোনো ঘর ফাঁকা রেখো না। না জানা প্রশ্নেও দুটো অপশন বাদ দিতে পারলে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক।
এরপর
এই ১৫টা প্রশ্ন একবার করে ফেলার পর আসল কাজ শুরু। প্রতিটা অধ্যায় শেষ করে ওই অধ্যায় থেকে নিজে দশটা প্রশ্ন বানাও। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা কাজ করে — প্রশ্ন বানাতে গেলে বুঝতে হয় কোথায় ভুল করা সম্ভব, আর বোর্ডের প্রশ্ন ঠিক ওখান থেকেই আসে।
কোন অধ্যায়গুলো পড়তে হবে তা এখানে দেখে নাও।
1 thought on “HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র MCQ — অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন ও ব্যাখ্যাসহ উত্তর”