সিলেবাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি ছড়ায় একটা কারণে — নেটে খুঁজলে বিভিন্ন বছরের সিলেবাস একসাথে চলে আসে, আর কোনটা কার জন্য সেটা কোথাও পরিষ্কার করে লেখা থাকে না।
তাই শুরুতেই সেই প্রশ্নটার উত্তর।
কোন সিলেবাস তোমার জন্য
করোনা-পরবর্তী কয়েক বছর পুনর্বিন্যাসকৃত বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থা স্থায়ী নয় — বোর্ড ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে এসেছে।
সাধারণভাবে এখন যা প্রযোজ্য:
নিয়মিত শিক্ষার্থী — পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, পূর্ণ নম্বর, পূর্ণ সময়। অর্থাৎ বইয়ের সব অধ্যায়ই পড়তে হবে।
অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী — এদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বছরের নির্ধারিত সিলেবাস প্রযোজ্য হতে পারে, যা নিয়মিতদের থেকে আলাদা।
এই ভাগটা প্রতি বছর বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। তাই ইন্টারনেটের কোনো লেখার ওপর ভরসা না করে — এই লেখাটাও ধরে — নিজের শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে চলতি বছরের বিজ্ঞপ্তিটা একবার দেখে নেওয়াই নিরাপদ। কলেজের অফিস থেকেও জেনে নিতে পারো।
পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্রের অধ্যায়
১. ভৌত জগৎ ও পরিমাপ
২. ভেক্টর
৩. গতিবিদ্যা
৪. নিউটনিয়ান বলবিদ্যা
৫. কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
৬. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ
৭. পদার্থের গাঠনিক ধর্ম
৮. পর্যাবৃত্ত গতি
৯. তরঙ্গ
১০. আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব
১ম পত্রের চরিত্রটা মূলত বলবিদ্যার। প্রথম পাঁচটা অধ্যায় একটার ওপর আরেকটা দাঁড়ানো — ভেক্টর না বুঝে গতিবিদ্যা হয় না, গতিবিদ্যা না বুঝে নিউটনিয়ান বলবিদ্যা হয় না। তাই এখানে অধ্যায় টপকে যাওয়া চলে না।
আর একটা কথা — উচ্চতর গণিতের ভেক্টর, অন্তরীকরণ আর সমাকলন এখানে সরাসরি কাজে লাগে। গণিতটা আগে ধরলে পদার্থবিজ্ঞান অনেক সহজ লাগে।
পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের অধ্যায়
১. তাপগতিবিদ্যা
২. স্থির তড়িৎ
৩. চল তড়িৎ
৪. তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব
৫. তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ
৬. জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান
৭. ভৌত আলোকবিজ্ঞান
৮. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা
৯. পরমাণুর মডেল ও নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান
১০. সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স
১১. জ্যোতির্বিজ্ঞান
২য় পত্র ১ম পত্রের চেয়ে আলাদা ধরনের। এখানে অধ্যায়গুলো তুলনামূলক স্বাধীন — তড়িৎ না পড়ে আলোকবিজ্ঞান পড়া যায়। তাই কোনো অধ্যায়ে আটকে গেলে অন্যটায় চলে যেতে পারো, পুরো প্রস্তুতি থেমে থাকবে না।
তড়িৎ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো (২ থেকে ৫) একসাথে পড়াই ভালো, কারণ এদের মধ্যে যোগাযোগ আছে।
সিলেবাসটা আসলে কীভাবে কাজে লাগাবে
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সিলেবাস একবার নামিয়ে ফোল্ডারে রেখে দেয়, তারপর আর খোলে না। অথচ সিলেবাস শুধু অধ্যায়ের তালিকা নয় — এটা আসলে প্রস্তুতির নকশা।
প্রিন্ট করে দেয়ালে টাঙাও। যে অধ্যায় শেষ হবে তার পাশে টিক দাও। কতটা হয়েছে আর কতটা বাকি — এক নজরে দেখা গেলে পরিকল্পনা করাও সহজ হয়, আর কাজ এগোচ্ছে দেখলে পড়তেও ভালো লাগে।
প্রতিটা অধ্যায়ের শিখনফল পড়ো। সিলেবাসে প্রতিটা অধ্যায়ের নিচে কী কী শিখতে হবে তা লেখা থাকে। প্রশ্ন মূলত ওখান থেকেই আসে। বইয়ের সব লাইন সমান গুরুত্বপূর্ণ নয় — সিলেবাস বলে দেয় কোনটা।
ব্যবহারিক তালিকাটা দেখে নাও। কোন পরীক্ষাগুলো করতে হবে সেটা সিলেবাসেই দেওয়া থাকে। খাতা লেখার আগে একবার মিলিয়ে নিলে বাদ পড়ার ভয় থাকে না।
নম্বর বিভাজন নিয়ে
পদার্থবিজ্ঞানে প্রতি পত্রে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দুই অংশ থাকে, আর তত্ত্বীয় অংশে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি দুটোতেই আলাদাভাবে পাস করতে হয়।
নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো — কয়টা সৃজনশীল লিখতে হবে, কত নম্বরের এমসিকিউ, কত সময় — এগুলো বছর ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোর্ড নির্ধারণ করে দেয়। এখানে কোনো সংখ্যা লিখে দিলে সেটা তোমার বছরের জন্য ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই সংখ্যাগুলো বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি থেকেই নিও — এক মিনিটের কাজ, কিন্তু পুরো প্রস্তুতির পরিকল্পনা এর ওপর দাঁড়ায়।
শেষ কথা
সিলেবাস দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এগারো আর দশ — মোট একুশটা অধ্যায় শুনতে অনেক, কিন্তু দুই বছরে ভাগ করলে মাসে একটার একটু বেশি। যারা পিছিয়ে পড়ে তারা অধ্যায়ের সংখ্যায় হারে না, হারে দেরি করে শুরু করে।
বিজ্ঞান বিভাগের অন্য বিষয়গুলোর সিলেবাস ও কোনটা কাদের জন্য প্রযোজ্য — সেসব একসাথে দেখতে চাইলে এখানে আছে।
2 thoughts on “HSC পদার্থবিজ্ঞান সিলেবাস — ১ম ও ২য় পত্রের অধ্যায় ও প্রস্তুতি”