HSC সিলেবাস — বিজ্ঞান বিভাগ: কোন সিলেবাস কার জন্য, বিষয় ও পত্র তালিকাসহ

এইচএসসি সিলেবাস নিয়ে খোঁজ করতে গেলে একটা সমস্যায় প্রায় সবাই পড়ে। সার্চ করলে বিভিন্ন বছরের সিলেবাস একসাথে চলে আসে — কোনোটা পূর্ণাঙ্গ, কোনোটা পুনর্বিন্যাসকৃত, কোনোটা কয়েক বছরের পুরনো। কোনটা নিজের জন্য প্রযোজ্য সেটা বোঝা যায় না।

এই লেখায় প্রথমে সেই বিভ্রান্তিটা পরিষ্কার করা হলো, তারপর বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় তালিকা।

কোন সিলেবাস কার জন্য

করোনার সময় কয়েকটি বছর পুনর্বিন্যাসকৃত বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছিল, নম্বর ও সময়ও কমানো হয়েছিল। ওটা ছিল সাময়িক ব্যবস্থা। বোর্ড ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে এসেছে।

নিয়মিত শিক্ষার্থী — পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, পূর্ণ নম্বর, পূর্ণ সময়। বইয়ের সব অধ্যায় পড়তে হবে। “শর্ট সিলেবাস” খুঁজে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।

অনিয়মিত শিক্ষার্থী — যারা আগের কোনো বছরে পরীক্ষা দিয়েছে এবং এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বছরের নির্ধারিত সিলেবাস প্রযোজ্য হতে পারে।

মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী — এদের জন্যও আলাদা নির্দেশনা থাকে।

শেষ দুটো ক্ষেত্রে নিয়মটা প্রতি বছর বদলাতে পারে। তাই নিজের শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে চলতি বছরের বিজ্ঞপ্তিটা দেখে নেওয়া, অথবা কলেজের অফিসে জিজ্ঞেস করাই সবচেয়ে নিরাপদ। ইন্টারনেটের কোনো লেখার ওপর — এই লেখাটাও ধরে — চূড়ান্ত ভরসা কোরো না, কারণ নিয়ম বদলালে পুরনো লেখাগুলো আপডেট হয় না।

বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়

আবশ্যিক বিষয়

বাংলা ১ম ও ২য় পত্র
ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)

বিভাগভিত্তিক বিষয়

পদার্থবিজ্ঞান ১ম ও ২য় পত্র
রসায়ন ১ম ও ২য় পত্র
জীববিজ্ঞান ১ম ও ২য় পত্র
উচ্চতর গণিত ১ম ও ২য় পত্র

সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন সবাইকে নিতে হয়, আর জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতের মধ্যে একটি তৃতীয় বিষয় এবং অন্যটি চতুর্থ বিষয় হিসেবে নেওয়া হয়। কলেজভেদে ব্যবস্থা কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই নিজের কলেজের নিয়মটা জেনে নিও।

চতুর্থ বিষয়ের একটা ব্যাপার অনেকে দেরিতে বোঝে — এই বিষয়ে প্রাপ্ত পয়েন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাদ দিয়ে বাকিটা মোট ফলাফলে যোগ হয়। তাই চতুর্থ বিষয় ভালো করলে জিপিএ বাড়ে, কিন্তু এটাকে “কম গুরুত্বের” ভেবে ফেলে রাখলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সমস্যায় পড়তে হয় — বিশেষ করে উচ্চতর গণিত চতুর্থ বিষয় হলে, কারণ প্রকৌশল ও অনেক বিজ্ঞানভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় ওটা লাগে।

সিলেবাস কোথায় পাবে

দুই জায়গায় দুই ধরনের জিনিস থাকে, আর এই পার্থক্যটা জানা থাকলে খোঁজা সহজ হয়।

এনসিটিবি — পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যবই। কোন বিষয়ে কী পড়ানো হবে, প্রতিটি অধ্যায়ের শিখনফল কী, বইয়ের PDF — এসব এখানে।

এনসিটিবি ওয়েবসাইট →

শিক্ষা বোর্ড — পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। কোন সিলেবাসে পরীক্ষা হবে, নম্বর বিভাজন, রুটিন, কে কোন সিলেবাস পাবে — এসব নিজের বোর্ডের (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বা মাদ্রাসা বোর্ড) ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি আকারে আসে।

মোটকথা — কী পড়তে হবে জানতে এনসিটিবি, আর কীভাবে পরীক্ষা হবে জানতে বোর্ড।

সিলেবাস হাতে পাওয়ার পর

সিলেবাস নামিয়ে ফোনে রেখে দিলে কোনো কাজ হয় না। কয়েকটা জিনিস করলে এটা সত্যিই কাজে লাগে।

প্রিন্ট করে দেয়ালে টাঙাও। অধ্যায় শেষ হলে টিক দাও। দুই বছরের কাজ চোখের সামনে থাকলে কতটা এগিয়েছো বোঝা যায়, আর পিছিয়ে পড়লে সেটাও সময়মতো ধরা পড়ে।

শিখনফলগুলো পড়ো। প্রতিটা অধ্যায়ের নিচে কী কী শিখতে হবে তা লেখা থাকে — প্রশ্ন মূলত ওখান থেকেই আসে। বইয়ের প্রতিটা লাইন সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর সিলেবাসই বলে দেয় কোনটা।

ব্যবহারিকের তালিকা আলাদা করে রাখো। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত — চার বিষয়েই ব্যবহারিক আছে। চারটার তালিকা একসাথে দেখে নিলে বোঝা যায় সারা বছরে কত খাতা লিখতে হবে। এই কাজটা জানুয়ারিতে করলে ডিসেম্বরে রাত জাগতে হয় না।

বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত

পদার্থবিজ্ঞানের দুই পত্রের অধ্যায় তালিকা ও প্রস্তুতির পরিকল্পনা আলাদা করে লেখা আছে।

HSC পদার্থবিজ্ঞান সিলেবাস — ১ম ও ২য় পত্র

উচ্চতর গণিত ও রসায়নের বই এবং অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়েও লেখা আছে।

উচ্চতর গণিত ১ম পত্র বই ও অধ্যায় তালিকা
উচ্চতর গণিত ২য় পত্র বই ও অধ্যায় তালিকা
রসায়ন ১ম পত্র বই ও অধ্যায় তালিকা

শেষে একটা কথা। সিলেবাস খোঁজা, রুটিন বানানো, কোন বই ভালো তা নিয়ে আলোচনা — এসবে সময় দিতে ভালো লাগে, কারণ মনে হয় কাজ এগোচ্ছে। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই পড়া নয়। এক ঘণ্টা সিলেবাস ঘাঁটার চেয়ে দশ মিনিট বই খুলে পড়া বেশি কাজে দেয়।

1 thought on “HSC সিলেবাস — বিজ্ঞান বিভাগ: কোন সিলেবাস কার জন্য, বিষয় ও পত্র তালিকাসহ”

Leave a Comment