পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা হলো — এটা সূত্র মুখস্থের বিষয়।
যারা এভাবে শুরু করে তারা প্রথম কয়েক মাস ভালোই চালিয়ে নেয়। সমস্যা বাধে যখন প্রশ্নে সূত্রটা সরাসরি বসানো যায় না, একটু ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। তখন বোঝা যায় সূত্রটা জানা ছিল, কিন্তু কোথা থেকে এলো আর কখন খাটে সেটা জানা ছিল না।
১ম পত্রের বইটা আসলে সেই “কোথা থেকে এলো” অংশটাই বলে। গাইড বই সূত্র দেয়, পাঠ্যবই দেয় সূত্রের জন্ম। আর সৃজনশীলের ‘গ’ অংশে প্রায়ই ওই জন্মটাই চাওয়া হয়।
বইয়ের দশটি অধ্যায়
১. ভৌত জগৎ ও পরিমাপ — মাত্রা, একক, পরিমাপে ত্রুটি ও সার্থক অঙ্ক। ছোট অধ্যায়, অনেকে হালকাভাবে নেয়, অথচ মাত্রা বিশ্লেষণ দিয়ে সারা বছর সূত্র যাচাই করা যায়।
২. ভেক্টর — যোগ, বিয়োজন, স্কেলার ও ভেক্টর গুণজ। পুরো ১ম পত্রের ভাষা এটাই। এখানে দুর্বল থাকলে গতিবিদ্যা থেকে শুরু করে সব জায়গায় ভুগতে হবে।
৩. গতিবিদ্যা — সরল ও দ্বিমাত্রিক গতি, প্রাস। লেখচিত্র পড়তে শেখাটা এই অধ্যায়ের আসল দক্ষতা।
৪. নিউটনিয়ান বলবিদ্যা — নিউটনের সূত্র, ভরবেগ, ঘর্ষণ, সংঘর্ষ। বইয়ের কেন্দ্রীয় অধ্যায়।
৫. কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি — শক্তির সংরক্ষণ ও রূপান্তর। এখান থেকে অঙ্ক নিয়মিত আসে, আর ধারণা সহজ।
৬. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ — মহাকর্ষ সূত্র, মুক্তিবেগ, কৃত্রিম উপগ্রহ।
৭. পদার্থের গাঠনিক ধর্ম — স্থিতিস্থাপকতা, পৃষ্ঠটান, সান্দ্রতা। তুলনামূলক আলাদা ধরনের, বেশি বর্ণনামূলক।
৮. পর্যাবৃত্ত গতি — সরল ছন্দিত স্পন্দন, সরল দোলক।
৯. তরঙ্গ — তরঙ্গের ধর্ম, শব্দ, স্পন্দন। ৮ নম্বরের সাথে মিলিয়ে পড়াই ভালো।
১০. আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব — গ্যাস সূত্র, গতিতত্ত্বের সমীকরণ। ২য় পত্রের তাপগতিবিদ্যার প্রস্তুতি হিসেবেও কাজে লাগে।
যে গণিতটা আগে লাগবে
এটা অনেকে দেরিতে বোঝে, আর তখন সময় নষ্ট হয়ে যায়।
পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র পড়তে গেলে উচ্চতর গণিত ১ম পত্রের কয়েকটা জিনিস আগে থেকে জানা থাকা দরকার — ভেক্টর, অন্তরীকরণ ও সমাকলন।
বেগ মানে সরণের অন্তরজ, ত্বরণ মানে বেগের অন্তরজ। কাজ বের করতে হয় সমাকলন দিয়ে। এই ভাষাটা না জানলে বইয়ের প্রতিপাদনগুলো শুধু চিহ্নের সারি মনে হবে।
তাই একটা পরামর্শ — উচ্চতর গণিতের অন্তরীকরণ অধ্যায়টা অন্তত একবার শেষ করে তারপর পদার্থবিজ্ঞানের গতিবিদ্যায় হাত দাও। উল্টো ক্রমে গেলে দুই বিষয়েই আটকে থাকতে হয়।
উচ্চতর গণিত ১ম পত্র বই PDF ডাউনলোড
বইটা নামাবে যেখান থেকে
এনসিটিবির ওয়েবসাইটে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তালিকা থেকে পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র বেছে নাও। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, ঠিকানার শেষে .gov.bd আছে কিনা একবার দেখে নিও।
এনসিটিবি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান →
পদার্থবিজ্ঞানের বই যেভাবে পড়তে হয়
গণিতের বই আর পদার্থবিজ্ঞানের বই একইভাবে পড়া যায় না। এখানে প্রতিটা অধ্যায়ে তিনটে আলাদা জিনিস থাকে, আর তিনটেই লাগে।
ব্যাখ্যার অংশ — ঘটনাটা কী ঘটছে সেটা বলে। এই অংশ পড়ে বইটা বন্ধ করে নিজের ভাষায় বলার চেষ্টা করো। না পারলে বুঝোনি, আবার পড়ো।
প্রতিপাদন — সূত্রটা কোথা থেকে এলো। অনেকে এই অংশ লাফিয়ে যায়, অথচ সৃজনশীলে সরাসরি প্রতিপাদন চাওয়া হয়। প্রতিটা প্রতিপাদন অন্তত একবার নিজে খাতায় করো।
অঙ্ক — সূত্রটা প্রয়োগ করা। বইয়ের উদাহরণগুলো আগে করো, তারপর অনুশীলনী।
একটা কাজ খুব কাজে দেয় — প্রতিটা সূত্রের পাশে তার একক লিখে রাখো। পরীক্ষায় সূত্র নিয়ে সন্দেহ হলে একক মিলিয়ে যাচাই করে নেওয়া যায়। ডান পাশ আর বাঁ পাশের একক না মিললে বুঝবে সূত্রটা ভুল মনে করেছো।
ব্যবহারিকের কথা
পদার্থবিজ্ঞানের ব্যবহারিকে পরিমাপের যন্ত্র — স্লাইড ক্যালিপার্স, স্ক্রু গজ, স্ফেরোমিটার — বড় জায়গা নেয়, আর এদের তত্ত্ব ১ম অধ্যায়ে। অধ্যায়টা পড়ার সময়ই খাতার সংশ্লিষ্ট অংশ লিখে রাখলে পরে আর ফিরে আসতে হয় না।
লেখচিত্র আঁকার পরীক্ষাগুলোতেও নিয়মিত নম্বর কাটা যায় — অক্ষের নাম, একক আর স্কেল লিখতে ভুলে যাওয়ার কারণে। এগুলো শুরু থেকেই অভ্যাস করে ফেলো।
সংশ্লিষ্ট লেখা
HSC পদার্থবিজ্ঞান সিলেবাস — ১ম ও ২য় পত্র
HSC সিলেবাস — বিজ্ঞান বিভাগ
শেষ কথা — পদার্থবিজ্ঞানে যারা ভালো করে, তারা বেশি সূত্র জানে বলে করে না। তারা জানে কোন সূত্রটা কেন খাটছে। সেটা শেখার একমাত্র জায়গা পাঠ্যবইয়ের ওই প্রতিপাদনের অংশটুকু, যেটা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী উল্টে চলে যায়।