পদার্থবিজ্ঞানে সূত্র মুখস্থ করা আর সূত্র বোঝা এক জিনিস নয়। কোন রাশি কী বোঝায় আর কোন এককে মাপা হয় — এটা না জানলে সঠিক সূত্র বসিয়েও উত্তর ভুল আসে। নিচের তালিকাটা রিভিশনের জন্য, প্রথমবার শেখার জন্য নয়। বই থেকে অধ্যায় পড়ার পর এখান থেকে দ্রুত ঝালিয়ে নিতে পারবে।
২য় অধ্যায়: ভেক্টর
দুটি ভেক্টরের লব্ধি: R = √(P² + Q² + 2PQ cos θ)
লব্ধির দিক: tan α = (Q sin θ) / (P + Q cos θ)
ডট গুণন: A · B = AB cos θ — ফল একটি স্কেলার
ক্রস গুণন: A × B = AB sin θ n̂ — ফল একটি ভেক্টর
এখানে θ হলো দুই ভেক্টরের অন্তর্ভুক্ত কোণ। θ = ০° হলে লব্ধি সর্বোচ্চ (P + Q), আর θ = ১৮০° হলে সর্বনিম্ন (P − Q)। এই দুটো সীমা মনে রাখলে MCQ-তে অনেক সময় হিসাব ছাড়াই উত্তর মিলে যায়।
৩য় অধ্যায়: গতিবিদ্যা
v = u + at
s = ut + ½at²
v² = u² + 2as
n-তম সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব: sn = u + (a/2)(2n − 1)
প্রাসের ক্ষেত্রে — সর্বোচ্চ উচ্চতা H = u²sin²θ / 2g, বিচরণ পথ R = u²sin2θ / g, বিচরণকাল T = 2u sinθ / g।
মনে রাখো, R সর্বোচ্চ হয় যখন θ = ৪৫°। এটা প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো বোর্ডে আসে।
৪র্থ অধ্যায়: নিউটনীয় বলবিদ্যা
বল: F = ma
ভরবেগ: p = mv
ঘাত: J = FΔt = Δp
ঘর্ষণ বল: f = μN
কেন্দ্রমুখী বল: F = mv²/r = mω²r
৫ম অধ্যায়: কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
কাজ: W = Fs cos θ
গতিশক্তি: Ek = ½mv²
বিভবশক্তি: Ep = mgh
ক্ষমতা: P = W/t = Fv
দক্ষতা: η = (কার্যকর আউটপুট / মোট ইনপুট) × ১০০%
গতিশক্তি ও ভরবেগের সম্পর্ক: Ek = p²/2m — সৃজনশীলের “ঘ” অংশে এই সম্পর্কটা কাজে লাগে।
৭ম অধ্যায়: পর্যাবৃত্ত গতি
সরল ছন্দিত স্পন্দনের সরণ: x = A sin(ωt + φ)
পর্যায়কাল: T = 2π√(m/k)
সরল দোলকের পর্যায়কাল: T = 2π√(L/g)
দোলকের সূত্রে ভর নেই — এটা পরীক্ষায় ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় খুব বেশি। ববের ভর বাড়ালে পর্যায়কাল বদলায় না।
৮ম অধ্যায়: তরঙ্গ
v = fλ
শব্দের বেগ ও তাপমাত্রা: vt = v0 + 0.61t (t সেলসিয়াসে)
ডপলার ক্রিয়া: f′ = f (v ± v0) / (v ∓ vs)
৯ম অধ্যায়: আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব
আদর্শ গ্যাস সমীকরণ: PV = nRT
গতিতত্ত্বের মূল সমীকরণ: P = ⅓ρc̄²
গড় বর্গবেগের বর্গমূল: crms = √(3RT/M)
১০ম অধ্যায়: তাপগতিবিদ্যা
প্রথম সূত্র: dQ = dU + dW
কার্নো ইঞ্জিনের দক্ষতা: η = 1 − (T2/T1)
এখানে তাপমাত্রা অবশ্যই কেলভিনে বসাতে হবে। সেলসিয়াস বসিয়ে দিলে উত্তর পুরো ভুল আসে — এটাই এই অধ্যায়ে সবচেয়ে বেশি হওয়া ভুল।
সূত্র ব্যবহারের তিনটি অভ্যাস
একক মিলিয়ে নাও। হিসাব শুরুর আগে সব রাশিকে SI এককে আনো। সেন্টিমিটার থাকলে মিটারে, গ্রাম থাকলে কিলোগ্রামে।
সূত্র লিখে তারপর মান বসাও। সরাসরি সংখ্যা বসিয়ে হিসাব শুরু করলে ভুল ধরা কঠিন হয়, আর খাতায় নম্বরও কাটা যায়। বোর্ডে সূত্র লেখার জন্য আলাদা নম্বর থাকে।
উত্তরের যৌক্তিকতা যাচাই করো। কোনো বস্তুর বেগ যদি আলোর বেগের চেয়ে বেশি আসে, বুঝতে হবে কোথাও ভুল হয়েছে। এই সাধারণ বুদ্ধিটা কাজে লাগালে অনেক ভুল ধরা পড়ে যায়।
3 thoughts on “HSC Physics ১ম পত্র সূত্র তালিকা — অধ্যায়ভিত্তিক, অর্থসহ”